▶ সাতক্ষীরা জেলা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত সাতক্ষীরা দেশের প্রধান শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র। এটি প্রশাসনিকভাবে খুলনা বিভাগের অন্তর্গত। জেলার পূর্বে খুলনা, উত্তরে যশোর, পশ্চিমে চব্বিশ পরগনা (ভারত) জেলার বশির হাট মহকুমা ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। উত্তর দক্ষিণে লম্বা জেলাটির দক্ষিণাংশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি সুন্দরবনের অন্তর্ভুক্ত। যার আয়তন ১৪৪৫ দশমিক ১৮ বর্গ কিলোমিটার।
▶ ইতিহাস
প্রাচীনকালে বুড়ন দ্বীপ নামে খ্যাত ছিল সাতক্ষীরা জেলা। এর পাশে চন্দ্রদ্বীপ, মধুদ্বীপ, সূর্যদ্বীপ, সঙ্গদ্বীপ, জয়দ্বীপের অবস্থান ছিল। রামায়ণ ও মহাভারতের তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে বসতির গোড়াপত্তন হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ সনে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ সময় গঙ্গার মোহনায় অবস্থিত গঙ্গারিডি নামক রাষ্ট্রের অংশ ছিল বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা। সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে জেলাটি শশাঙ্কের কর্তৃত্বাধীনে আসে এবং সমতটের অংশ ছিল। অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত পাল ও বর্মণ রাজারা শাসন করেন বুড়ন দ্বীপ। ১৩৯৯ থেকে ১৪১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সাতক্ষীরা অঞ্চল ছিল ইলিয়াস শাহের বংশের অধীনে।
১৪৪২ সালে শাহীবংশের নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের পরবর্তী সময়ে হোসেন শাহী নসরত শাহের সময়েও সাতক্ষীরা ছিল তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। কররানী বংশের পতনের পর দাউদ কররানীর প্রধান পরামর্শদাতা শ্রীহরি নিজেকে দক্ষিণাঞ্চলের ভূঁইয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি বিক্রমাদিত্য উপাধি ধারণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে মকুন্দপুর নামক স্থানে রাজধানী স্থাপন করেন। বিক্রমাদিত্যের মুত্যুর পর তাঁর পুত্র প্রতাপাদিত্য কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। প্রতাপাদিত্যের পতনের পর খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল চলে যায় জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে।
১৭৮১ সালে টিলম্যান হেংকেল প্রথম যশোর অঞ্চলে ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ নিযুক্ত হওয়ার পর সুন্দরবন এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলে ব্যাপক প্রশাসনিক উন্নতি হয়। হেংকেলের সময়ে সাতক্ষীরা যশোর অঞ্চলে চতুর্থ মহকুমা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৭৮৬ সালে যশোর পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। ১৮৫২ সালে সাতক্ষীরা অঞ্চল মহকুমার মর্যাদা লাভ করে। প্রথম মহকুমা প্রশাসক হন নবাব আব্দুল লতিফ। মহকুমার মর্যাদা পর প্রথমে নদীয়া জেলার সঙ্গে সাতক্ষীরাকে যুক্ত করা হয়। ১৮৬১ সালে নদীয়া থেকে আলাদা করে চব্বিশ পরগণার সঙ্গে যুক্ত করা হয় সাতক্ষীরাকে। ১৮৮২ সালে জেলার মর্যাদা লাভ করে খুলনা। লর্ড রিপনের (১৮৮০-৮৪) প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা মহকুমাকে খুলনা জেলার মহকুমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা মহকুমাকে জেলা মর্যাদা দেওয়া হয়।
▶ নামকরণ
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কর্মচারী বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী নিলামে বুড়ন পরগণা কিনে তার অন্তর্গত সাতঘরিয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর পুত্র প্রাণনাথ সাতঘরিয়া অঞ্চলে উন্নয়ন করে সমাদৃত হন। তিনি কলারোয়াতে এর সদর দপ্তর স্থাপন করেন। ১৮৬১ সালে মহকুমা কার্যালয় সাতঘরিয়া তথা সাতক্ষীরাতে স্থানান্তর করা হয়। সাতঘরিয়া ইংরেজ রাজকর্মচারীদের মুখেই সাতক্ষীরা নামে পরিচিতি পায়। সেই নামটি বর্তমান সাতক্ষীরা।
➢ কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক: খুলনার সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে অবস্থিত পার্ক ও টহল ফাঁড়ি সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থিত।
➢ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির: জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অতি প্রাচীন পবিত্র স্থান। আনাড়ি নামে এক ব্রাহ্মণ মন্দিরটি নির্মাণ করেন । তিনিই এই মন্দিরে ১০০টি দরজা তৈরি করেন। পরবর্তীতে এটি সংস্কার করেন লক্ষ্মণ সেন ও রাজা প্রতাপাদিত্য।
➢ দেশের প্রথম খ্রিস্টান গির্জা: জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে দেশের প্রথম খ্রিস্টান গির্জা অবস্থিত ছিল। রাজা প্রতাপাদিত্যের ফরমানে গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে গির্জার নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ফাদার সোসও ফনসেকার অনুরোধে প্রতাপাদিত্য গির্জা নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে।
➢ জাহাজঘাটা নৌদুর্গ: জেলার শ্যামনগর উপজেলা সদরের উত্তরে খানপুর গ্রামের রাজা প্রতাপাদিত্যের জাহাজঘাটা নৌদুর্গ অবস্থিত। যমুনার ইছামতি নদীর তীরে বর্তমান মৌতলার কাছে রাজা প্রতাপাদিত্য নিজের যুদ্ধজাহাজ তৈরি ও মেরামতের জন্য পোতাশ্রয় তৈরি করেন।
➢ মান্দারবাড়ি সমুদ্রসৈকত: জেলার শ্যামনগর উপজেলার বঙ্গোপসাগরের এক নয়নাভিরাম বেলাভূমি। হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরের এক পাশে সুন্দরবন এবং অন্য পাশে মান্দারবাড়ি সমুদ্রসৈকত অবস্থিত।
➢ সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির: জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। ৬০ ফুট উঁচু টেরাকোটা ফলক খচিত মন্দিরটি শ্যামসুন্দর মন্দির নামেও পরিচিত। ১৭৬৭ সালে (বাংলা ১২০৮) রানী রাশমনি এই মঠ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
➢ জোড়া শিবমন্দির: জেলার সদর উপজেলার ঝাঁউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এটি অবস্থিত। ১৮১৩ সালে জমিদার ফকির চাঁদ ঘোষ এটি নির্মাণ করেন।
➢ তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ: আগ্রার তাজমহলের অপরুপ নির্মাণশৈলীকে নির্মিত অনন্য স্থাপত্যশিল্প তেঁতুলিয়া মসজিদ। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে জমিদার কাজী সালামদুল্লাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৮১৫ সালে। জেলার তালা উপজেলায় এটি অবস্থিত।
➢ গুড়পুকুর মেলা: সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রে পলাশপোল উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তরে এটি অবস্থিত। মেলাটি বাংলা ১২০০ শতাব্দীর প্রথম দিকে শুরু হয়। গুড়পুকুরের নামানুসারে মেলার নামকরন করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজাকে ঘিরে মেলাটির উদ্ভব হয়।
➢ আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার: জেলার শ্যামনগর উপজেলায় এটি অবস্থিত। জেলা প্রশাসন এটি পরিচালনা করেন। এখানের রয়েছে বাঁশের তৈরি ট্রেইল, আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়াম, কারাম মুরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ (ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা মুণ্ডা জাতিগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করে)।
➢ গোলখালি সুন্দরবন পয়েন্ট: জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তবর্তী একটি স্থানের এটি অবস্থিত।
➢ কৈখালি সীমান্ত ও পাঁচনদীর মোহনা: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নে এটি অবস্থিত। কৈখালি সীমান্ত রায়মঙ্গলসহ ছোট-বড় পাঁচনদীর মোহনা। নদীর ওপারে ভারত। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায়।
➢ শিয়ালকুনি বনায়ন: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে অবস্থিত একটি ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রকল্প। স্থানটি নীলডুমুর ও সুন্দরবনের কলাগাছি পয়েন্টের কাছাকাছি।
➢ সুন্দরবন ইকো-কটেজ: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে এটি অবস্থিত।
➢ উড়ালমন আদিবাসী গ্রাম: শ্যামনগর উপজেলার দাঁতিনাখালী গ্রামের মুণ্ডাপাড়ায় স্থানীয় মুণ্ডা যুবকরা এই ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারটি গড়ে তুলেন।
➢ মৌমাছি ইকো কটেজ ও বোট রাইডিং: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যতীন্দ্রনগর গ্রামে চুনকুড় ফরেস্ট অফিসের পাশে এটি অবস্থিত। কটেজটি মুণ্ডা সম্প্রদায় কর্তৃক পরিচালিত।
➢ ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলা: দেবহাটা উপজেলা পরিষদের পাশে অবস্থিত শতবছরের বনবিবি বটতলা।
➢ নলতা পাক রওজা শরীফ: জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে অবস্থিত।
➢ নকিপুর জমিদার বাড়ি: শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নে নকিপুর গ্রামে অবস্থিত।
➢ টাউনশ্রীপুর জমিদার বাড়ি: দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের টাউনশ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত।
➢ প্রবাজপুর শাহী মসজিদ: কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের প্রবাজপুর গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটি ১১০৪ হিজরি ১৯ রমজান নির্মিত হয়। সুবেদার প্রবাজ খান এটি নিমার্ণ করেন।
➢ বংশীপুর শাহী মসজিদ: ১৫৯৯ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। রাজা প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি খাজা কামাল এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি টেংগা মসজিদ নামেও পরিচিত।
➢ মা মারিয়িা গির্জা: কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাচাই গ্রামে এটি অবস্থিত। এটি ১৯৯৩ সালে নির্মাণ করা হয়।
➢ পঞ্চমন্দির (মায়েরবাড়ি): সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরায় অবস্থিত। জমিদার বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী মন্দিরগুলো ১২০১ সালে নির্মাণ করেন। এখানে রয়েছে-- অন্নপূর্ণা, কালভৈরব, কালী, শিব ও রাধাগোবিন্দ মন্দির।
➢ লাবসা জমিদারবাড়ি মসজিদ: সাতক্ষীরার সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের লাবসা গ্রামে এটি অবস্থিত। এটি ১৮৮৪ সালে নির্মিত হয়।
➢ সাতক্ষীরার প্রথম মিউনিসিপ্যালিটি: দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের টাউনশ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত। ১৮৬৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া রয়েছে, প্রাণসায়র খাল, দ্বাদশ শিবকালী মন্দির, শ্যামসুন্দর মন্দির, নবরত্ন মন্দির, বসন্তপুর ইদগাহ, কাটুনিয়া রাজবাড়ি, লোকনাথ ব্রহ্মচারী শান্তি নিকেতন, হাশেমী বাড়ি, সিকান্দার মেলা।
➢ রাজা প্রতাপাদিত্য: বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ছিলেন। জেলার কালিগঞ্জ, শ্যামনগর অঞ্চল তার প্রাচীন যশোহর রাজ্যের রাজধানী ছিল। তাঁর সময়কার অনেক পুরাকীর্তি এখনো সাতক্ষীরাকে গৌরবান্বিত করছে। যশোরেশ্বরী মন্দির, চন্ডভৈরবের ত্রিকোণ মন্দির, হাম্মামখানা, টেঙ্গা মসজিদ, বারদুয়ারি, রাজবাড়ি নির্মাণ করেন।
➢ ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়: সদর উপজেলার বাবুলিয়া গ্রামে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে ব্রিটিশ সরকারের অধীন দ্বিতীয় আফগান যুদ্ধে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঝিলাম নদীতে সেতু নির্মাণ করে সম্মাননা স্বরুপ ‘রাও সাহেব’ উপাধি পান।
➢ সিকান্দার আবু জাফর: কবি, গীতিকার, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক। তিনি জেলার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবন শুরু করেন কাজী নজরুল ইসলামের নবযুগ পত্রিকায়। ১৯৫৭ থেকে আজীবন সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হল- বাঙলা ছাড়ো, তিমিরান্তিক, বৈরী বৃষ্টিতে, প্রসন্ন প্রহর, সিরাজ-উদ-দৌলা, মাটি আর অশ্রু, মাকড়সা, ‘নতুন সকাল, আমাদের সংগ্রাম চলবেই (গান)।
➢ নীলুফার ইয়াসমীন: জেলার সদর উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামে ১৯৪৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। দেশের অন্যতম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সঙ্গীত পরিচালক খান আতাউর রহমানের স্ত্রী।
➢ সাবিনা ইয়াসমিন: কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। জেলার সদর উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামে ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গান- সব কটা জানালা খুলে দাও না, জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো, আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই, জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, ও আমার বাংলা মা, একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা।
➢ আফজাল হোসেন: দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের অন্যতম টেলিভিশন, মঞ্চ, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা।
➢ আবেদ খান: জেলার সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দৈনিক সমকাল, যুগান্তর ও ভোরের কাগজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
➢ পচাব্দী গাজী: বিশ্ব বিখ্যাত বাঘ শিকারী। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও জার্মান চ্যাঞ্চেলরের সুন্দরবন পরিদর্শনে গাইড হিসেবে কাজ করেন এবং পুরস্কৃত হন। প্রকৃত নাম আব্দুল হামিদ গাজী।
এছাড়া রয়েছেন আজিজুননেছা খাতুন (প্রথম মুসলিম মহিলা কবি), বিপ্লবী কেশবচন্দ্র সমাদ্দার, ফাল্গুনী হামিদ, তারিক আনাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মাওলানা ময়েজউদ্দিন হামিদী।
➢ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ: দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনা অবস্থিত। এ দ্বীপটির অপর নাম নিউমুর বা পূর্বাশা। দ্বীপটির আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। দ্বীপটি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধ বিদ্যামান।
➢ নদ-নদী: কাকশিয়ালী, কালিন্দী, ইছামতি, হাওড়া, গুতিয়াখালী নদী, কপোতাক্ষ, লাবণ্যবতী, রায় মঙ্গল ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদী।
➢ ভোমরা স্থলবন্দর: জেলার সদর উপজেলার ভোমরা সীমান্তে অবস্থিত। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে স্থলবন্দরটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯৯৬ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতায় ভোমরা স্থল শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম চালু হয়। ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারি শুল্ক স্টেশনটিকে বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালের ১৮ মে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
➢ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: মুণ্ডা, ভগবেনে (ভগবানিয়া), চাঁড়াল (চণ্ডাল) ওপোদ, কৈবর্ত, বাগ্দি/ রাজবংশী।
➢ আম: বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার যে আম বিদেশে রপ্তানি করা হয় সেটি ছিল সাতক্ষীরার আম। এই জেলার আম বিদেমে প্রথম প্রবেশ করে। এউ জেলায় বিভিন্ন প্রকারের আম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।
➢ কুল: সাতক্ষীরার কুলের দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে। এটি জেলার অর্থনীতিতে রাখছে ব্যাপক অবদান।
➢ চিংড়ি: এই জেলায় ব্যাপকহারে চাষ করা হয় হোয়াইট গোল্ড চিংড়ি। জেলার সদর, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও দেবহাটায় সত্তর এর দশকে প্রথম বাগড়া চিংড়ির চাষ শুরু হয়। মূলত, দেশের প্রথম বিভাগ হিসেবে খুলানায় চাষ শুরু হয়।
➢ মাটির টালি: এই জেলায় তৈরি হয় বিখ্যাত মাটির টালি। যা বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি হয়। আয় হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।
এছাড়া মিষ্টি, কিছু রিসোর্ট, চুইঝালসহ কিছু পণ্য অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।