(২ জানুয়ারি, ১৯১৭ – ১৪ মে, ১৯৯৮)
কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
( প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান )
পিতা: শেখ মোহাম্মদ এহিয়া।
মাতা: গুলজান বেগম।
পুরস্কার: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৭), মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার (১৯৮৩), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৭), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার ( ১৯৯১)।
❖শিক্ষা ও কর্মজীবনঃ
➣ শিক্ষা: কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৩), সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৬) ও বিএ (১৯৩৯) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ (১৯৪১) পাশ।
➣ কর্মজীবন: আইএ পাশ করার পর কিছুদিন কলকাতা করপোরেশন এবং বাংলা সরকারের তথ্য বিভাগে চাকরি করেন। এমএ পাশ করার পর গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে (১৯৪১) লেকচারার পদে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্স-এ যোগ দেন এবং ১৯৫৯ সাল থেকে ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৭২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। এছাড়া চাকরির প্রথমদিকে স্বল্পসময় কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
❖উপন্যাসঃ বনি আদম ( ১৯৪৬), জননী (১৯৬১), ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), সমাগম (১৯৬৭), চৌরসন্ধি (১৯৬৮), রাজা উপাখ্যান (১৯৭১),পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫), রাজপুরুষ (১৯৯২), রাজসাক্ষী ( ১৯৮৫), তোলপাড়।
❖মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১, তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস), দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), জলাংগী ( ১৯৮৬)।
❖গল্পগ্রন্থঃ জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প (১৯৫২), মনিব ও তাহার কুকুর (১৯৮৬), ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী (১৯৯০), প্রস্তর ফলক, সাবেক কাহিনী, জন্ম যদি তব বঙ্গে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), পুরাতন খঞ্জর, বিগত কালের গল্প, নেত্রপথ, উভশৃঙ্গ, পিজরাপোল, উপলক্ষ।
❖প্রবন্ধগ্রন্থঃ ভাব ভাষা ভাবনা (১৯৭৪), সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (১৯৮৫), মুসলিম মানসের রূপান্তর (১৯৮৬)।
❖নাটকঃ আমলার মামলা (১৯৪৯), পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (১৯৯০), বাগদাদের কবি, কাঁকর মনি।
❖গুরুত্বপূর্ণ গল্পঃ বিবেক, দুই মুসাফির, মৌন নয় ( ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ), নতুন জন্ম, মোজেজা, দুই বিগ্রেডিয়ার (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ), আলোক অন্বেষা ( মুক্তিযুদ্ধ )।
❖শিশুতোষ গ্রন্থঃ ওটেন সাহেবের বাংলো (১৯৪৪), মস্কুইটোফোন (১৯৫৭), ক্ষুদে সোশালিস্ট (১৯৭৩), পঞ্চসঙ্গী (১৯৮৭), তারা দুই জন (১৯৪৪)।
❖রম্যরচনাঃ নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত (১৯৮২)।
❖স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থঃ স্বজন সংগ্রাম (১৯৮৬), কালরাত্রি খন্ডচিত্র (১৯৮৬), অনেক কথন (১৯৯১), গুড বাই জাস্টিস মাসুদ (১৯৯৩), মুজিবনগর (১৯৯৩), অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ (১৯৯৪), সোদরের খোঁজে স্বদেশের সন্ধানে (১৯৯৫), মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা (১৯৯৬), আর এক ধারাভাষ্য (১৯৯৬)।
❖অনূদিত গ্রন্থঃ নিশো (১৯৪৮-৪৯), লুকনিতশি (১৯৪৮), বাগদাদের কবি (১৯৫৩), টাইম মেশিন (১৯৫৯), পাঁচটি কাহিনী (লিও টলস্টয়, ১৯৫৯), স্পেনের ছোটগল্প (১৯৬৫), পাঁচটি নাটক (মলিয়ার, ১৯৭২), ডাক্তার আব্দুল্লাহর কারখানা (১৯৭৩), পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে মানুষ (১৯৮৫), সন্তানের স্বীকারোক্তি (১৯৮৫)।
➢ বিশেষ তথ্যঃ
❖ গ্রন্থকারে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ– জননী।
❖ আদমজি পুরস্কার প্রাপ্ত গ্রন্থ– ক্রীতদাসের হাসি (প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস )।
❖ ফিলিপস পুরস্কার প্রাপ্ত গল্পগ্রন্থ– ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী।
➢চরিত্রঃ
❖ জননী (উপন্যাস)– দরিয়া বিবি, আজাহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল।
❖ ক্রীতদাসের হাসি (উপন্যাস)– তাতারি, মেহেরজান, বাদশা হারুন।
❖ দুই সৈনিক (উপন্যাস)– সাহেলী, মখদুম মৃধা, চামেলী।
❖ জাহান্নম হতে বিদায় (উপন্যাস)– গাজী রহমান।
➢জননী উপন্যাসের প্রেক্ষাপট– সন্তানের মঙ্গল ও নিরাপত্তা সব মা কামনা করে । উপন্যাসটিতে সে কথাই ব্যক্ত হয়। পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা। দরিয়া বিবি সে পল্লী জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়। এছাড়াও মূলকাহিনির পাশাপাশি মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের গরীব মানুষের ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন উপন্যাসটিতে চিত্রায়িত হয়েছে।
➢ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসের প্রেক্ষাপট– উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি করে। তাদের গৃহবন্দী করে এবং অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু অত্যাচারের প্রতিবাদ করে। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক। তাতারি এই উপন্যাসে স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
