ইলেকটোরাল কলেজ কী: এই পদ্ধতিটি মার্কিন সংবিধানের ২ নং অনুচ্ছেদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এখানে ‘কলেজ’ হচ্ছে— সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা একটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার অধিকারী। ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ হচ্ছে কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যাদের ‘ইলেকটরস’ বলা হয়। এরা এক কথায় নির্বাচক মণ্ডলী। একটি রাজ্যের ইলেকটরদের একসঙ্গে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ বলা হয়। প্রতি চার বছর পর পর এটি গঠন করা হয় এবং এরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাই করেন।
ইলেকটরসরা মূলত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকেন। সাধারণ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রত্যেক রাজ্যে তাদের মনোনীত ইলেকটোরাল ভোটারের তালিকা জমা দেওয়া হয়, যাকে ‘স্লেট’ বলা হয়। সাধারণ নির্বাচনের সময় সাধারণ ভোটারেরা যখন প্রেসিডেন্টকে ভোট দেন, তখন তাঁরা মূলত ইলেকটোরাল ভোটারের এই ‘স্লেট’ নির্বাচন করেন। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জয়ী হন, তাঁর দলের স্লেটটিই ইলেকটোরাল ভোটার হিসেবে নির্বাচিত হয়।
ইলেক্টোরাল কলেজের কাজ: মূলত মার্কিন সরকার নির্বাহী বিভাগ (রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিসভা), বিচার বিভাগীয় বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) এবং আইন প্রণয়ন বিভাগ (কংগ্রেস) সমন্বয়ে গঠিত।
মার্কিন কংগ্রেস: কংগ্রেস ‘হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট’ নিয়ে গঠিত। কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা— ৫৩৫। এর মধ্যে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদস্য— ৪৩৫ জন। এবং সিনেট সদস্য— ১০০ জন। ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছে— ৩ জন সদস্য। মোট সদস্য বা ইলেক্টোরাল ভোট ৫৩৮ জন।
মার্কিন সিনেট: অঙ্গরাজ্যগুলোর সম-প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সিনেট গঠিত হয়। মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর আয়তন ও লোকসংখ্যায় তারতম্য থাকলেও প্রত্যেক অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটে ২ জন করে সদস্য নির্বাচিত হয়। সিনেটরদের মেয়াদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৬ বছর। এটি এমনভাবে নির্বাচন করা হয় যাতে, প্রতি ২ বছরে সিনেটের মোট আসনের প্রায় এক–তৃতীয়াংশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফলে সিনেটে কখনোই নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হয় না।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া: আমেরিকার রাজধানীর প্রাচীন নাম ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটন ডিসি নামে পরিচিত। ১৭৯০ সালে আমেরিকার প্রথম রাজধানী ফিলাডেলফিয়াকে ওয়াসিংটন ডিসিতে স্থানান্তর করা হয় ।
ইলেকটোরাল কলেজ সংখ্যা