বড় কাটরা ও ছোট কাটরা নির্মাণ ইতিহাস
কাটরা শব্দটি আরবি ‘কাতারা’ ও ফারসি ‘ক্যারাভান’ থেকে এসেছে। যার অর্থ অতিথিশালা। বড় কাটরার বর্তমান অবস্থান চকবাজার থানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা নির্দেশে তাঁর মীর-ই-ইমারত (প্রধান স্থপতি) দীউয়ান মীর মুহম্মদ আবুল কাসেম এটি নির্মাণ করেন। বড় কাটরায় ফারসি ভাষায় লিখিত দুটি শিলালিপি রয়েছে। প্রথম শিলালিপি উল্লেখিত নির্মাণকাল ১৬৪৩-৪৪ সাল এবং অপরটিতে রয়েছে ১৬৪৫-৪৬ সাল। ছোট কাটরার অবস্থান বড় কাটরার পূর্বদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। নবাব শায়েস্তা খানের সময়ে ১৬৬৩ থেকে ১৬৬৪ সালের দিকে এ ইমারতটির নির্মান কাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৬৭১ সালে। এর স্থাপত্যিক গঠনশৈলী বড় কাটরার অনুরূপ হলেও আকারে ছোট।
স্থাপত্যশৈলী
বড় কাটরা চতুর্ভুজাকৃতিতে নির্মিত তিনতলা ইমারত। এর প্রতি পার্শ্বে ২২টি কক্ষ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছিল দুটি প্রবেশপথ। সম্মুখভাগ ছিল বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে। ইমারতের দোতলায় এবং তিনতলায় নির্মিত ছিল বসবাসের কক্ষ। মুঘল রাজকীয় স্থাপত্য-রীতিতে এটি নির্মাণ করা হয়। ছোট কাটরার উত্তর ও দক্ষিণে ছিল দুটি প্রবেশপথ। এর মধ্যে দক্ষিণেরটি প্রধান প্রবেশপথ। দক্ষিণের প্রবেশপথটি ত্রিতল এবং উত্তরেরটি দ্বিতল। তবে ১৮১৬ সালে মিশনারি লিওনার্দ ছোট কাটরায় চালু করেন ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল। ১৮৫৭ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকার প্রথম নরমাল স্কুল। এছাড়া ছোট কাটরায় বিবি চম্পার স্মৃতিসৌধ অবস্থিত ছিল। এক গম্বুজ, চার কোণা, প্রতিপাশে ২৪ ফুট দীর্ঘ ছিল স্মৃতিসৌধটি। পাদ্রী শেফার্ড এটি ধ্বংস করেন। বিবি চম্পা কে ছিলেন তা জানা যায় নি। কারো কারো মতে, তিনি শায়েস্তা খাঁনের মেয়ে অথবা স্ত্রী ছিলেন।
সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ
দুটি স্থাপনাকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ‘সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ‘ঐতিহ্যবাহী বিশেষ ভবন/স্থাপনা’ হিসেবে ঘোষণা এবং সংরক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করে ২০২০ সালে। বর্তমানে এ-দুটি স্থাপনা প্রায় বিলুপ্ত।
এছাড়া মুঘল ও নবাবি আমলে ঢাকায় প্রচুর কাটরা নির্মিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সদরঘাটে মায়াকাটরা, মৌলভীবাজারে মুকিম কাটরা, নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় নবাব কাটরা, কারওয়ানবাজারের কাটরা। ঢাকায় মুঘল ও নবাবি আমলে নির্মিত প্রাসাদ ও কাটরাগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু বড় কাটরা ও ছোট কাটরারই অস্তিত্ব বিদ্যমান।