বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে পূর্বদিকের ফেনী অঞ্চল ভূ-খন্ড হিসেবে অধিকতর প্রাচীন বলে পণ্ডিতগণ মত প্রকাশ করেছেন। দূর অতীতে এ অঞ্চল ছিল সাগরের অংশ; তবে উত্তর পূর্ব দিক ছিল পাহাড়িয়া অঞ্চলের পাদদেশ। ফেনীর পূর্বদিকের রঘুনন্দন পাহাড় থেকে কাজির বাগের পোড়ামাটি অঞ্চলে হয়ত; আদিকালে শিকারী মানুষের প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল। জেলাটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
❖ ভৌগোলিক অবস্থান: দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে জেলাটির অবস্থান। ফেনী জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে চট্টগ্রাম জেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে চট্টগ্রাম জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা।
❖ নামকরণ: ফেনীর নাম নিয়ে বেশ কয়েকটি মত রয়েছে। যথা:
✓ ফেনী নদীর নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় ফেনী।
✓ ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পরাগলপুরে ‘ফনী নদীর’ নাম পাওয়া যায়।
✓ মধ্যযুগে কবি ও সাহিত্যিকদের কবিতা ও সাহিত্যে একটা বিশেষ নদীর স্রোতধা ও ফেরী পারা পারের ঘাট হিসেবে ‘ফনী’ শব্দটি পাওয়া যায়।
✓ সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত ‘বাহরিস্তান-ই-গায়েবীতে’ ফনী শব্দ ফেনীতে পরিণত হয়।
✓ ডঃ আহমদ শরীফ ‘চট্টগ্রামের ইতিকথায়’ উল্লেখ করেন, প্রাচীনকালে আধুনিক ফেনী অঞ্চল ছাড়া নোয়াখালীর বেশির ভাগ ছিল নিম্ন জলা ভূমি। তখন ভুলুয়া (নোয়াখালীর আদি নাম) ও জুগিদিয়া (ফেনী নদীর সাগর সঙ্গমে অবস্থিত) ছিল দ্বীপের মতো।
✓ মনে হয় আদি শব্দ ‘ফনী’ মুসলমান কবি ও সাহিত্যিকদের ভাষায় ফেনীতে পরিণত হয়েছে।
❖ মহকুমা থেকে জেলা: ১৮৭২-৭৪ সালের মধ্যে মোগল আমলের আমীরগাও থানা নদী ভাঙ্গনের মুখোমুখি হলে তা ফেনী নদীর ঘাটের অদূরে খাইয়অ্যা্রাতে স্থানান্তরিত হয়। ঐ থানাটি কোম্পানির কাগজ পত্রে ফেনী থানা (ফেনী নদীর অদূরে বলে) নামে পরিচিত হয়। অতঃপর ১৮৭৬ সালে নতুন মহকুমার পত্তন হলে খাইয়অ্যা্রা থেকে থানা দপ্তরটি মহকুমা সদরে স্থানান্তরিত হয় ও নতুন মহকুমাটি ফেনী নামে পরিচিত হয়। ১৮৭৫ সালে মিরসরাই, ছাগলনাইয়া ও আমীরগাঁও এর সমন্বয়ে গঠিত মহকুমাটির প্রথম মহকুমা প্রশাসক ছিলেন কবি নবীন চন্দ্র সেন। প্রথম মহকুমা সদর দপ্তর ছিল আমীরগাঁওয়ে। ১৭৭৬ সালে মিরসরাইকে কর্তন করে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভক্ত করা হয়। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে যে সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয় ‘ফেনী জেলা’ তার অন্যতম। যদিও ১৯৮৪ সালের পূর্বে এটি নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা ছিল।
❖একদৃষ্টিতে
আয়তন: ৯২৮ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
মোট জনসংখ্যা: ১৬, ৪৮, ১১৯ জন (জনশুমারি-২০২২)
উপজেলা: ৬টি (ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম, দাগনভুইয়া)।
থানা: ৬টি (ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম, দাগনভুইয়া)।
পৌরসভা: ৫টি।
ইউনিয়ন: ৪৩টি।
গ্রাম: ৫৬৪টি।
সাক্ষরতার হার: ৮০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৫২৮টি।
ডিগ্রি কলেজ: ১১টি।
উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ: ১০টি।
সংসদীয় আসন: ৩টি (ফেনী- ১ (২৬৫) পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা, ফেনী- ২ (২৬৬) ফেনী সদর উপজেলা, ফেনী- ৩ (২৬৭) সোনাগাজী ও দাগনভুইয়া উপজেলা)।
গার্লস ক্যাডেট কলেজ: ১টি।
শিল্প নগরী: ২টি।
গ্যাস ফিল্ড: ১টি (ফেনী গ্যাস ফিল্ড, সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত)।
বি জি বি সেক্টর হেড কোয়ার্টার: ১টি (জয়লস্কর, দাগনভুইয়া)।
❖ মুহুরী বাঁধ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাঝামাঝি মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া, কালিদাস- পাহালিয়া ও ফেনী এ পাঁচটি নদীর নিম্ন অববাহিকায় বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মুহুরী বাঁধের অবস্থান। ‘পঞ্চ নদীর মুহুরী বাঁধ, ফেনী জেলার আশীর্বাদ’ শিরোনামে ফেনী জেলার ব্র্যান্ডিং হিসেবে ‘মুহুরী বাঁধ’ কে নির্ধারণ করা হয়েছে। মেসার্স রহমান এন্ড এসোসিটেস লিঃ এবং মেসার্স ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রকল্পের বিশদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করা হয় এবং ১৯৭৭ - ৭৮ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ - ৭৮ হতে ১৯৮৫ - ৮৬ সালে “মুহুরী সেচ প্রকল্প” বাস্তবায়ন করা হয়।
❖ বিজয় সিংহ দিঘি: রাজা বিজয় সিংহের আমলে (আসল নাম রাজকুমার বিজয় সিংহ, রাজত্বকাল ঐতিহ্যগতভাবে ৫৪৩ - ৫০৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) রাজার মা কে খুশি করার জন্যে দিঘি টি খনন করেন।
❖ জগন্নাথ কালী মন্দির: ছাগলনাইয়া উপজেলায় অবস্থিত। শসসের গাজী তার বাল্যকালে লালন কর্তা জগন্নাথ সেনের স্মৃতিতে এ মন্দির ও কালী মূর্তি নির্মাণ করেন।
❖ চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদ: মোগল আমলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চাঁদ গাজী ভূঞার নামানুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের অদূরে চাঁদগাজী বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। চাঁদগাজী বাজারের কাছে মাটিয়া গোধা গ্রামে (মহামায়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে) অতীত ইতিহাসের সাক্ষী ‘চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদ’ অবস্থিত। মসজিদের সামনে একটি কালো পাথরের নামফলকে এ মসজিদের নির্মানকাল ১১১২ হিজরী সন উল্লিখিত আছে।
❖ পাগলা মিঞাঁর মাজার: দরবেশ পাগলা মিঞাঁর প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ আমীর উদ্দিন (রঃ)। ১৮২৩ সালে ফাযিলপুর ছনুয়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয় এবং ১৮৮৭ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে (তাঁর জন্মদিনে) তাঁর মাজারে ওরশ হয়। সেখানে জাতি- ধর্মনির্বিশেষে হাজার হাজার লোক সমবেত হয়।
❖ সাত মন্দির: ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম ছাগলনাইয়া গ্রামে অবস্থিত।
❖ শমসের গাজীর দিঘী: ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পকনগরে অবস্থিত। নবান সিরাজউদ্দৌল্লার শাসনামলে ‘ভাঁটির বাঘ’ হিসেবে পরিচিত শমসের গাজী ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা ও ত্রিপুরার রোশনাবাদ পরগণার কৃষক বিদ্রোহের নেতা। এছাড়াও এখানে শমসের গাজীর সুরঙ্গ পথ, এক খোইল্লা দিঘীসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।
❖ ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়: ১৮৮৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
❖ গান্ধী আশ্রম: নতুন মুন্সিরহাট বাজারে অবস্থিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবদ্দশায় ১৯২১ সালের ৩১ আগস্ট ফেনীতে আসেন এবং রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে সভা করেন।
❖ বিলোনিয়া সীমান্ত পোস্ট: পরশুরাম উপজেলায় অবস্থিত ।
❖ প্রাচীর সুড়ঙ্গ মঠ: ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ সোনাপুর ও মান্দারপুর মৌজার পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত।
❖ প্রধান নদী
ফেনী নদী, মুহুরী নদী, কহুয়া নদী, সিলোনিয়া নদী, কালিদাস পাহালিয়া নদী।
ফেনী জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ফেনী, মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া, ছোট ফেনী ও কালিদাস- পাহালিয়া নদী। তবে মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া ও কালিদাস- পাহালিয়া নদী এক স্থানে মিলিত হয়ে ফেনী নদীতে মিশে গেছে।
❖ ফেনী নদী: উৎস মুখ- খাগড়াছড়ি জেলার পার্বত্য এলাকা হতে উৎপত্তি । অবস্থান- মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি। পতিত মুখ- সন্দীপ চ্যানেল, সোনাগাজী, ফেনী। দৈর্ঘ্য- ৮০ কিমি, প্রস্থ- ১৫০ মিটার।
❖ মুহুরী নদী: উৎস মুখ - ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকা হতে উৎপত্তি। অবস্থান- পরশুরাম, ফেনী এবং পতিত মুখ- ফেনী নদী, ফেনী সদর, ফেনী। দৈর্ঘ্য- ৬৮ কিমি, প্রস্থ- ৭০ মিটার।
❖ কহুয়া নদী: উৎস মুখ - মুহুরী নদী ও অবস্থান- পরশুরাম, ফেনী এবং পতিত মুখ- মুহুরী নদী, ফুলগাজী, ফেনী। দৈর্ঘ্য- ১৭ কিমি, প্রস্থ- ২৬ মিটার।
❖ সিলোনিয়া নদী: উৎস মুখ- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকা হতে উৎপত্তি। অবস্থান- পরশুরাম, ফেনী। পতিত মুখ- মুহুরী নদী। দৈর্ঘ্য- ৫৬ কিমি, প্রস্থ- ২৮ মিটার।
❖ এছাড়া রয়েছে মুহুরী সেচ প্রকল্প: যে নদীর উপর- শুভপুর সেতু ও ফেনী রেগুলেটর ছোট ফেনী নদী। উৎস মুখ- কাঁকড়ী নদী, অবস্থান- চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা এবং পতিত মুখ- সন্দীপ চ্যানেল, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী। দৈর্ঘ্য- ৮০ কিমি, প্রস্থ- ১৮০ মিটার।
❖ হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরী: রাজনীতিক, সাংবাদিক, ফুটবল খেলোয়াড় ।
জন্ম: ১৯০৬ সাল।
মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল ১৯৬৬।
তিনি কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অন্যতম স্থপতি ছিলেন। ১৯৩৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন ‘বুলবুল’ নামের সাহিত্য পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে ফেনী অঞ্চল থেকে আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
❖ আবদুস সালাম: ভাষা শহিদ ।
জন্ম: ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালী জেলার ফেনী মহকুমার দাগনভুইয়ার মাতুভূঁইয়া ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে (বর্তমানে ফেনীর দাগনভুইয়া উপজেলার সালামনগর গ্রাম)।
মৃত্যু: ৭ এপ্রিল ১৯৫২, ঢাকা।
মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সম্মুখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশের গুলিতে আহত হন। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে ‘মরণোত্তর একুশে পদকে’ ভূষিত করা হয়। তিনি ছোট্ট একটি পদে কাজ করতেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টর অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে এবং থাকতেন নীলক্ষেত ব্যারাকের ৩৬/ বি নং কোয়ার্টারে।
সালামের শহিদ হওয়ার তারিখ কেন ৭ এপ্রিল?
ভাষা শহিদ সালামের ভাই আব্দুল করিম জানিয়েছিলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিতে আহত হওয়ার চার দিন পর তার ভাই (আবদুস সালাম) শহিদ হন। তবে ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার ভাষা শহিদ আবদুস সালামকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। সেই একুশে পদকের গেজেট প্রকাশের সময়ই ভুলবশত ২৫ ফেব্রুয়ারির বদলে লেখা হয়েছিল ৭ এপ্রিল। এরপর থেকে চূড়ান্ত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে প্রায় সমস্ত জায়গায় যাচাই না করে ২৫ ফেব্রুয়ারির বদলে ৭ এপ্রিল লেখা হয়। সরকারি গেজেটে পুনঃ সংশোধন আর করা হয়নি।
❖ সেলিনা পারভীন: শহিদ বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, কবি, লেখিকা ।
জন্ম: ৩১ মার্চ ১৯৩১ সাল, ফেনী (বর্তমানে শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক)।
মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহিদ হন। তিনি কর্মজীবনের শুরুতে ‘ললনা’ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘শিলালিপি’র প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ শহীদুল্লাহ কায়সার: সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, শহিদ বুদ্ধিজীবী।
জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ সাল, মজুপুর গ্রাম, ফেনী।
নিখোঁজ: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে।
প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেননি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ - সারেং বউ, সংশপ্তক, কৃষ্ণচূড়া মেঘ, দিগন্তে ফুলের আগুন, কুসুমের কান্না, চন্দ্রভানের কন্যা (গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত), রাজবন্দীর রোজনামচা, পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (ভ্রমন কাহিনী), পরিক্রমা (প্রবন্ধ সংকলন)।
❖ জহির রায়হান: সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রনির্মাতা, শহিদ বুদ্ধিজীবী।
জন্ম: ১৯ আগস্ট ১৯৩৫ সাল, মজুপুর গ্রাম, ফেনী।
মৃত্যু: ৩০ জানুয়ারি ১৯৭১, ঢাকা।
১৯৭১ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি বড় ভাই শহীদুল্লহ কায়সার এর খোঁজে বের হয়ে আর ফিরে আসেন নি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ - বরফ গলা নদী, শেষ বিকেলের মেয়ে, আর কতদিন, তৃষ্ণা, হাজার বছর ধরে এবং জীবন থেকে নেয়া, কাঁচের দেয়াল তাঁর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে তাঁর প্রামান্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
❖ ড. সেলিম আল দীন: প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক, নাট্যতত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নাট্যকার ও গবেষক ।
জন্ম: ১৯ আগস্ট ১৯৪৯ সাল, সেনেরখীল গ্রাম, সোনাগাজী, ফেনী।
মৃত্যু: ১৪ জানুয়ারি ২০০৮।
তিনি প্রবর্তন করেন বিশেষ শিল্পরীতি কথনাট্য এবং প্রতিষ্ঠা করেন ‘গ্রাম থিয়েটার’।
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক - মুনতাসির ফ্যান্টাসী, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তন খোলা, প্রাচ্য, বনপাংশুল, নিমজ্জন প্রভৃতি।
এছাড়া রয়েছেন-
গাজীউল হক - ভাষাসৈনিক।
কাইয়ুম চৌধুরী - চিত্রশিল্পী।
কবি সামছুন্নাহার মাহমুদ।
আহমেদ ফজলুর রহমান- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য।
কবি বেলাল চৌধুরী, ড: ইনামুল হক, সাংবাদিক আবদুস সালাম, লাকী ইনাম, শমী কায়সার, তরু মোস্তফা, গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
❖ জেলার সীমান্তবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো
ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ৪টি, ইউনিয়ন ১২টি। ফেনী সদর উপজেলার ৩টি সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে - ধর্মপুর, শর্শিদী, এবং কাজীরবাগ ইউনিয়ন; ছাগলনাইয়া উপজেলার ২টি সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে- শুভপুর ও মহামায়া ইউনিয়ন; ফুলগাজী উপজেলার ৪টি সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে- আমজাদ হাট, আনন্দপুর, মুন্সির হাট ও ফুলগাজী; পরশুরাম উপজেলার ৩টি সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হচ্ছে- চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ এবং মির্জানগর ইউনিয়ন।