আয়তন: ৪২০২.৭০ বর্গ কিমি।
জনসংখ্যা: ৩,৬২৫,২৫২ জন (জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২)।
উপজেলা: ৯টি (কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, সুবর্ণচর, সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, হাতিয়া)।
সংসদীয় আসন: ৬টি।
ইউনিয়ন: ৯৩টি।
ট্রেন: উপকূল এক্সপ্রেস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
জেলা ব্র্যান্ডিং: নিঝুম দ্বীপের দেশ নোয়াখালী।
❖ সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা নোয়াখালীর ব্র্যান্ডিং হলো ‘নিঝুম দ্বীপের দেশ নোয়াখালী’। জেলাটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বঙ্গোপসাগরের সন্নিহিত নোয়াখালী ভূ-খণ্ডটি আনুমানিক ৫-৬ হাজার পূর্বে উৎপন্ন হয়।
খ্রিস্টের জন্মের ১ হাজার বছর পূর্বে ভূ-খণ্ডটি বসবাসের উপযোগী হলে ‘অনার্য কিরাত জাতি’ এখানে প্রথম বসতি স্থাপন করে। চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দের পর কিরাত জাতিকে হটিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী আর্য জাতি এখানে প্রাধান্য বিস্তার করে। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজী নবদ্বীপ জয় করে। তখনো ভুলুয়ার রাজা ছিলেন বিশ্বম্ভর শূর। তিনি ও তাঁর বংশধররা প্রায় ৪০০ বছর রাজত্ব করেন। এই শূর বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা লক্ষণ মানিক্য। তার আগে রাজা বিশ্বম্ভর মিথিলা, বরিশাল, ফরিদপুর, ঢাকা থেকে শিক্ষিত ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্যদের এনে ভুলুয়া রাজ্যে অধিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীকালে এই জেলায় যে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয় তারা প্রায় সকলেই এদের বংশধর। এই আদি ‘ভুলুয়া’ হলো বর্তমান নোয়াখালী। এর রাজধানী ছিল কল্যাণপুর।
ভুলুয়ার রাজা ছিলেন জ্ঞানী ও বিদ্যোৎসাহী। আরাকানের রোসাঙ্গ রাজসভায় সাহিত্য চর্চার একশত বছর পূর্বে ভুলুয়া রাজসভায় সাহিত্য চর্চা হতো। রাজা লক্ষণ মানিক্য নিজেই সংস্কৃত ভাষায় দুটি নাটক রচনা করেন- ‘বিজয় ও কুবলয়স্য চরিত্র’। লক্ষণ মানিক্যের সভাপণ্ডিত কবি তার্কিক রঘুনাথ ‘কৌতুক রত্নাকর’ নামে সংস্কৃত নাটক রচনা করেন। ভুলুয়ার রাজা বলরামের (আনুমানিক ১৭৬০ সালে) সভাকবি পণ্ডিত আবদুর রাজ্জাক ‘সয়ফুল মুলক ও লালবানু’নামে একটি কাহিনিকাব্য রচনা করেন। তিনি ফেনীর বেদরাবাদ পরগণায় জন্মগ্রহণ করেন। রাজা জয়চন্দ্র বা জগৎ মাণিক্যের সভাকবি ভবানী নাথ ‘লক্ষণ-দিগ্বিজয়’ কাব্য রচনা করেন। এই কাব্যের জন্য রাজকোষ থেকে কবির জন্য দৈনিক বরাদ্দ ছিল ১০ মুদ্রা। ষোড়শ শতাব্দীতে ভুলুয়ার কবি শেখ সুলায়মান তার কাব্য ‘নসিয়তনামা’য় ভুলুয়ার সমৃদ্ধির বিবরণ দেন। একাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে দিল্লির সৈয়দ বংশের রাজত্বকালে ভুলুয়ায় এই বংশীয় পীর-দরবেশরা উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে। এতে নোয়াখালীতে হিন্দুদের আধিক্য কমে যায়।
১৭৭২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়ার কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করেন এবং প্রতি জেলায় একজন কালেক্টর নিয়োগ দেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল ‘কলিন্দা’। মূলত নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস।
১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ভাগ করা হয় ১৪টি জেলায়। এ ১৪টির মধ্যে ‘ভুলুয়া’ নামে একটি জেলা ছিল নোয়াখালী অঞ্চলে। পরবর্তীতে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮২১ সালে ‘ভুলুয়া’ নামে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮২২ সালের ২৮ মার্চ গভর্নর জেনারেল লর্ড সয়বা বা দ্বিতীয় হেস্টিংস নোয়াখালী অঞ্চলেকে ‘ভুলুয়া’ নামে পৃথক জেলা ঘোষণা করেন। ১৮৬৮ সালে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় ‘নোয়াখালী’।
বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ‘ভুলুয়া’। নোয়াখালী সদর থানার পূর্ব নাম ছিল ‘সুধারাম’। ‘ভুলুয়া’ নামকরণ নিয়ে মতবিভেদ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের মেঘনা নদীর উপকূলে একটি প্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রামের নাম ছিল ‘ভুলুয়া’ ও মেঘনা নদীর একটি শাখা নদীর নামও ছিল ‘ভুলুয়া’। অনেকে মনে করেন, এই নাম থেকে নামটি এসেছে।
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের ভুলুয়ার নামকরণ করা হয় নোয়াখালী। ইতিহাসবিদদের মতে ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে ১৬৬০ সালে একটি খাল খনন করা হয়। যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ি ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নোয়া (নতুন) খাল বলা হতো। এর ফলে অঞ্চলটি একসময়ে লোকের মুখে ‘নোয়াখালী’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
❖ জেলা ব্র্যান্ডিং: নিঝুম দ্বীপের দেশ নোয়াখালি।
❖নামার বাজার সৈকত (একই জায়গায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য) : হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের একটি জায়গা ‘নামার বাজার সৈকত’। এই বাজারের কূল ঘেঁষে বারো কিলোমিটারের সমুদ্রসৈকতটি নামার বাজার বিচ নামে পরিচিত। এখান থেকে দেখা যায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত।
❖লুদের রানি গির্জা: জেলার সদর উপজেলার কালিতারা গ্রামে অবস্থিত। কানাডার অধিবাসী খ্রিস্টান ফাদার তুরঞ্জ ১৯৫৯ সালে গির্জাটি নির্মাণ করেন।
❖জেলা জামে মসজিদ: ১৮৪১ সালে নোয়াখালীর পুরাতন শহরে ইমাম উদ্দীন সওদাগর এটি নির্মাণ করেন। পূর্বের মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হলে ১৯৫০ সালে মাইজদীতে বর্তমান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
❖পদুয়ার দরবার শরীফ: জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত। হযরত আবদুল মান্নান শ্যামপুরী (র) এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖জেলা প্রশাসকের দিঘী: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রয়েছে ১৬ একরে দিঘী। এটি জেলা প্রশাসকের দিঘী নামে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে বড় দিঘী নামে পরিচিত। বিংশ শতকের পঞ্চাশের দশকে এটি খনন করা হয়।
❖শহিদ ভুলু স্টেডিয়াম: এটি জেলার সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন স্টেডিয়াম। ১৯৭৩ সালে এটি শহিদ শাহাবুদ্দিন ইস্কান্দার ভুলুর নামে নামকরণ করা হয়। স্বাধীনতার পূর্বে নোয়াখালী জেলার ক্রীড়া জগতে কচি, ছালু ও ভুলু নামে তিন ভাই আলোচিত ছিলেন। এই তিন ভাইয়ের নামে ‘এস্কেন্দার ব্রাদার্স’ নামে একটি ক্লাব রয়েছে। এটি বর্তমান মাইজদী শহরে অবস্থিত।
❖নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২০০৬ সালে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এটি দেশের ২৭তম পাবলিক ও ৫তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে উপকূলীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা হয়। এটি জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
❖সাগর কন্যা হাতিয়া: জেলার বৃহত্তম উপজেলা হাতিয়া ২১০০ বর্গ কিলোমিটারের উপকূলীয় দ্বীপ। দ্বীপটির বর্তমান বয়স ৩০০০ বছর। হাটিয়া, হাতি পা, হাতিয়াল খান শব্দ থেকে হাতিয়া নামের উৎপত্তি। এর উত্তরে সুবর্ণচর উপজেলা ও উত্তর- পশ্চিমে রামগতি থানা। দক্ষিণে ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে মনপুরা উপজেলা।
১৫০ খ্রিষ্টাব্দে গ্রীক জ্যোতিবিদ টলেমির বিবরণ (৩০০০ বছরের নোয়াখালী ) এবং ডঃ আবদুল করিম বিরচিত বাংলার ইতিহাস গ্রন্থে জুগীদিয়া সোনাদিয়া, ট্রগিদিয়া, গোয়াকুলা, বামনী, তেরকাটিয়া সন্দ্বীপ, হাতিয়া, ভুলুয়া দ্বীপের কথা উল্লেখ আছে। ১৫০ খ্রিষ্টাব্দেও হাতিয়া একটি সমৃদ্ধ জনপথ ছিল। মুঘল আমলে (১৬৬৬-১৭৬৫) প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত ফৌজদার নামক একজন কর্মকর্তা হাতিয়ার (সন্দ্বীপ) পরগনার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৭৬৫ সালে বৃটিশ সরকার ফৌজদার পদ বিলুপ্ত করে। ১৭৭০ সাল পর্যন্ত হাতিয়া ঢাকার প্রাদেশিক পরিষদ তথা ঢাকা বিভাগের আওতাধীন চট্টগ্রাম জেলার অধীনে সন্বীপ পরগনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৭৮১ সালে হাতিয়াকে চট্টগ্রাম কালেক্টটর আওতাভুক্ত করা হয়। ১৮২১ সাল পর্যন্ত হাতিয়া চট্টগ্রাম জেলার অধীনে থেকে যায়। ১৮২১ সালে মেঘনা নদী পশ্চিমাংশ শাহবাজপুর (বর্তমানে ভোলা) এবং বর্তমানে বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকা সমূহকে নিয়ে ভুলুয়া নামে পৃথক জেলার সৃষ্টি করা হয়। হাতিয়া তখন ভুলুয়া তথা নোয়াখালী জেলার অধীনে ছিল। ১৮৬৮ সালে ভুলুয়া জেলার নাম পরিবর্তন করে নোয়াখালী রাখা হয়। ১৮৭৭ সালে নোয়াখালী জেলায় জেলা জজ পদ সৃষ্টি করে জেলা জজের অধীভুক্ত হাতিয়ার দেওয়ানী বিচারসমূহ নোয়াখালীতে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯১৪ সালে হাতিয়ায় সর্বপ্রথম সার্কেল প্রথার প্রবর্তন করা হয়। ১৯৮২ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং পূর্বতন থানা প্রশাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়।
❖স্বর্ণদ্বীপ: হাতিয়া উপজেলা অবস্থিত। ২০১৩ সাল থেকে দ্বীপটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান আয়তন ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার। এর পূর্ব নাম জাহাইজ্যার চর। এটি নোয়াখালীর দক্ষিণে ১৯৭৮ সালে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠে। ২০২০ সালে শেখ হাসিনার সফরকালে এর নামকরণ করা হয় স্বর্ণদ্বীপ।
❖ভাসানচর: বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নোয়াখালী জেলায় হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত চর ঈশ্বর ইউনিয়নে অবস্থিত। ভাসানচরের দূরত্ব সন্দ্বীপ উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৫ কিমি এবং হাতিয়া সদর উপজেলা থেকে ২৫ কিমি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মেঘনা নদীর অববাহিকায় চর প্রিয়া ও জালিয়ার চর বা ঠেংগার চরের সম্মিলিত নামকরণ করেন ভাসানচর। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য এখানে নির্মাণ করা হয় ‘আশ্রায়ণ-৩’ প্রকল্প নামে আবাসন। বর্তমানে অনেক রোহিঙ্গা এই চরে বসবাস করছে।
❖নিঝুম দ্বীপ: জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ। এটি ইছামতীর চর নামেও পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরটি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চর ওসমান, বাউল্লার চর, কামলার চর, ও মৌলভির চর নিয়ে নিঝুম দ্বীপ। দ্বীপটি সাগরে জেগে ওঠে ১৯৪০ সালে। বাংলাদেশ সরকার দ্বীপটিকে ‘জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণা করে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল। ২০১৩ সালে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র ইউনিয়নের মর্যাদা পায় নিঝুম দ্বীপ। ১৯৭০ ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর দ্বীপটির নামকরণ করা হয় ‘নিঝুম দ্বীপ’। দ্বীপটিকে এখন হরিণের অভয়ারণ্য বলা হয়। দ্বীপের খালসমূহ হলো- ডুবাই খাল, কাউনিয়া খাল, চৌধুরী খাল, পটকাখালী ও সোয়ানখালী খাল।
❖গান্ধী আশ্রম: বেগমগঞ্জ উপজেলা জয়াগ গ্রামে গান্ধী আশ্রমের অবস্থান। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর নোয়াখালীতে শুরু হয় ভয়ঙ্কর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা। দাঙ্গার খবরে গান্ধীজি ১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর নোয়াখালীর চৌমুহনী রেল ষ্টেশনে আসেন এবং প্রথম জনসভা করেন। এরপর দত্তপাড়া এলাকায় সভার মধ্য দিয়ে শুরু হয় গান্ধীর গ্রাম পরিক্রমা। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি জয়াগ গ্রামে পদার্পন করেন এবং ৩০ জানুয়ারি উদ্ধোধন করেন একটি বুনিয়াদী বিদ্যালয় যা বর্তমানে ‘গান্ধী মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ নামে পরিচিত। তৎকালীন জমিদার নোয়াখালীর প্রথম ব্যারিষ্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ জয়াগে গান্ধীজির আগমনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে গঠন করেন ‘অম্বিকা কালীগঙ্গা চেরিটেবল ট্রাস্ট’। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৫ সালে ‘অম্বিকা কালীগঙ্গা চেরিটেবল ট্রাস্ট’ ভেঙ্গে ‘গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট’ সৃষ্টি করেন। এছাড়া রয়েছে ‘গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর’।
❖কমলার দিঘী: হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি তেলাপিয়া মার্কেট নামেও পরিচিত।
❖বজরা শাহী মসজিদ: সোনাইমুড়ী উপজেলায় বজরা ইউনিয়নে এর অবস্থান। ১৭৪১-৪২ সালে জমিদার আমানুল্লাহ একটি দীঘি খনন করেন। তার পাশে ১৭৮১ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন।
❖নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরি: ১৮৯৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নোয়াখালীর প্রধান শহর মাইজদীতে অবস্থিত।
❖মুছাপুর ক্লোজার: কোম্পানীগঞ্জ থানার মুছাপুর গ্রামে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে ফেনী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে এটি। ২০০৯ সালে এটি নির্মিত হয়।
❖পাইতাং বাজার: হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে অবস্থিত।
❖নিমতলী সমুদ্র সৈকত: হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে অবস্থিত।
❖সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রটি ২০১২ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং একই বছরর ১৭ মার্চ উৎপাদন শুরু করে ব্যাপেক্স।
❖রেডিও সাগর দ্বীপ (এফএম ৯৯.২): হাতিয়ার বিপদাপন্ন মানুষদের তথ্য নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ‘আঙ্গো রেডিও আঙ্গো কতা কয়’ অর্থাৎ ‘আমাদের রেডিও আমাদের কথা বলে’ স্লোগান নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর হাতিয়ায় দেশের ১৫তম কমিউনিটি রেডিও ‘সাগর দ্বীপ’ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। হাতিয়া উপজেলার ওছখালী দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাইকার কারিগরি ও পিকেএসএফ এর অর্থায়নে ‘কমিউনিটি ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন বাই কমিউনিটি রেডিও’ প্রকল্পের আওতায় এটি স্থাপন করা হয়। ২১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এর কার্যক্রম বিস্তৃত।
❖দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা: হাতিয়া উপজেলার এর কার্যালয় অবস্থিত। সামাজিক কাজের জন্য সংস্থাটি ২০১৪ সালে মাদার তেরেসা এবং ২০১৫ সালে শেরে বাংলা সম্মাননা পদক লাভ করে।
❖বন্দরটিলা: নিঝুম দ্বীপের উত্তরাংশে এর অবস্থান। এখানকার মানুষ কৃষিকাজ ও মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করে।
❖বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি): সুবর্ণচর তেকে ১৪ মাইল পশ্চিমে এর অবস্থান। ২০১৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
❖ত্রিরত্ন শরণ বিহার: সোনাইমুড়ী উপজেলার লালপুর গ্রামে অবস্থিত। তালুকদার নন্দকুমার চৌধুরী ও শ্যামাচরণ চৌধুরী ভ্রাতাদ্বয় ১৩৩৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিহারটির নাম দেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
এছাড়া রয়েছে, করির পাটোয়ারী মসজিদ, সেনবাগ উপজেলার হক্কানী মসজিদ, সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের হরিণ খামার, চৌমুহনী পৌর মহাশ্মশান, আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত), ডেলটা জুট মিলস লিমিটেড (১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়), বেঙ্গল ফিড অ্যান্ড ফিশারিজ (বেগমগঞ্জে অবস্থিত, ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে), বীরশেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর (সোনাইমুড়ী উপজেলায় ২০০৮ সালে স্থাপিত),
➤ জন্ম: ১৯৩৪ সালে। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন বাগপাচরা গ্রামে (বর্তমানে সোনাইমুড়ী উপজেলা)।
➤ পিতা: মোহাম্মদ আযহার মিয়া।
➤ মাতা: মোসাম্মৎ জুলেখা খাতুন।
➤ কর্মক্ষেত্র ও শহিদ: ১৯৫১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান নৌ-বাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগ দেন। ২৫ মার্চের পর কর্মস্থল ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের জেনারেল এম এ জি ওসমানির নির্দেশে ভারত থেকে প্রাপ্ত নৌ জাহাজ বিএনএস পলাশে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিএনএস পদ্মা নৌ-জাহারের ইঞ্জিন রুম আর্টি ফিশার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ জাহাজে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় আলবদরের বাহিনীর সহযোগিতায় পাক বাহিনীর হাতে ধৃত হন এবং তাদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও সাহিত্যসমালোচক
➤ জন্ম: ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সাল।
➤ মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।
➤ জন্মস্থান: মানিকগঞ্জ, ঢাকা।
➤ পিতা: খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী।
➤ পৈতৃক নিবাস: নোয়াখালী জেলায়।
➤ সম্পূর্ণ নাম: আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।
➤ শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ অনার্স (১৯৪৬) ও এমএ (১৯৪৭)। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এমএ।
➤ পুরস্কার: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫)। ঢাকার থিয়েটার গোষ্ঠী তাঁর স্মরণে ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা’ (১৯৮৯) প্রবর্তন করেন।
❖ উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
➤ একাঙ্ক নাটক: সংঘাত (১৯৪৩), রাজার জন্মদিনে, মানুষ, পলাশী ব্যারাক, ফিট কলাম, নষ্ট ছেলে, মিলিটারী, কবর (রচনা ১৯৫৩, প্রকাশ ১৯৬৬), বংশধর, মর্মান্তিক।
➤ পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর (ট্রাজেডি, ১৯৬২), চিঠি (কমেডি, ১৯৬৬)।
➤ অনুবাদ নাটক: রূপার কৌটা (১৯৬৯), কেউ কিছু বলতে পারে না (বার্নার্ড শ-এর You Never Can Tell অবলম্বনে), মুখরা রমনী বশীকরণ, ওথেলো (অসমাপ্ত)।
➤ কৌতুক নাটক: দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য।
➤ প্রবন্ধ গ্রন্থ: মীর-মানস (১৯৬৫), বাংলা গদ্য রীতি (১৯৭০), ড্রাইডেন ও ডি.এল. রায়।
❖ দৃষ্টিপাত
♦ ১৯৬৫ সালে বাংলা টাইপ রাইটার নির্মাণ করেন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।
♦ মুনীর অপটিমার জন্য ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ভূষিত করে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পদকে। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর তিনি সেই পদক বর্জন করেন।
♦ কর্মজীবন শুরু ১৯৪৯ সালে খুলনার ব্রজলাল কলেজে ইংরেজির বিভাগের প্রভাষক হিসেবে।
♦ ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য ১৯৫২-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন।
♦ ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় লিখেন ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক ‘কবর’।
♦ ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে হত্যা করেন।
❖ শিরীন শারমিন চৌধুরী
(দেশের প্রথম নারী স্পিকার)
➤ জন্ম: ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায়।
➤ পৈত্রিক নিবাস: নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলা।
➤ পিতা: রফিকুল্লাহ চৌধুরী।
➤ শিক্ষা: এসএসসি (১৯৮৩ সালে), এইচএসসি (১৯৮৫ সালে) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (১৯৮৯ সালে) ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম (১৯৯০ সালে)। যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি (২০০০ সালে)।
➤ কর্মজীবন: ১৯৯২ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল নবম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।
(মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেশের প্রথম শহিদ বুদ্ধিজীবী)
বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং অধ্যাপক।
➤ জন্ম: ১৯২১ সালের ১ জানুয়ারি জেলার চাটখিল উপজেলার বালিয়াধার গ্রাম।
➤ শিক্ষা: তিনি ১৯৪০ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাশ করেন। একই বছর ভর্তি হয় কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের গণিত বিভাগে বিএসসি অনার্স শ্রেণীতে । ১৯৪৩ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিতের প্রভাষক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে এবং ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫৪ সালের নভেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন।
➤ মৃত্যু: ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী হবিবুর রহমানকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাসভবন থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গ্রন্থাবলি: On Crisis of Civilization (1950), On Fermat's Last Theorem, On Fundamental Human Rights (1969), নতুন শিক্ষানীতি (১৯৬৯), ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক (১৯৭০), On Pell's Equation।
(রাজনীতিবিদ)
➤ জন্ম: ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে। পিতা: মোশারফ হোসেন
➤ মাতা: ফজিলাতুন্নেছা।
➤ শিক্ষা: মাধ্যমিক (বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়)। উচ্চ মাধ্যমিক (নোয়াখালী সরকারি কলেজ)। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
➤ রাজনৈতিক জীবন: কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কোম্পানীগঞ্জ থানা শাখার অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আড়াই বছর কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (আসন-২৭২) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘সভাপতিমন্ডলীর সদস্য’ নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১২ সালের এপ্রিলে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুরঞ্জিত পদত্যাগ করায় কিছু দিন রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের দশম এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন এবং শেখ হাসিনার তৃতীয় ও চতুর্থ মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের ‘সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে ২১তম
➤ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে পুন:নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম জতীয় সম্মেলনে টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে পুনঃনিবার্চিত হন। যা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথম।
➤ সম্পাদক: ‘দৈনিক বাংলার বাণী’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন।
➤ রচিত গ্রন্থবলি: Bangladesh: A Revolution Betrayed, বাংলাদেশের হৃদয় হতে, পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু, এই বিজয়ের মুকুট কোথায়, তিন সমুদ্রের দেশে, মেঘে মেঘে অনেক বেলা’ কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি: যে কথা বলা হয়নি।
(বাংলা একাডেমি বই মেলার উদ্যোক্তা)
➤ জন্ম: ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন গ্রাম।
➤ মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর ২০০৭ সাল।
তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউসের সামনে বটতলায় চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২ টি বই দিয়ে মেলার সূচনা করেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি একা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা চালিয়ে যান। তিনি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পুঁথিঘর ও মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা।
➤ সম্মাননা: শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক (২০০৫ সালে), বিদ্যাসাগর পুরস্কার (২০০৫ সালে), থিয়েটারের শ্রদ্ধাঞ্জলী (১৯৮৬ সালে), বনলতা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬ সালে ), সেরা প্রকাশক স্বর্ণপদক (১৯৯৭ সালে), পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রতা সমিতির সম্মাননা।
(গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, গায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা)
➤ জন্ম: ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়।
➤ মৃত্যু: ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি।
➤ পৈতৃক নিবাস: বেগমগঞ্জ উপজেলার আটিয়াকান্দি।
➤ অন্যান্য কর্ম: তিনি ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালনায় আসেন। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ক্যাটাগরিতে প্রেমের তাজমহল সিনেমার জন্য ২০০১ সালে এবং হাজার বছর ধরে সিনেমার জন্য ২০০৫ সালে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। সংগীতে অবদানের জন্য ২০১০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
➤ জন্ম: ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।
➤ মৃত্যু: ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর।
➤ জন্মস্থান: ব্রাক্ষণবাড়িয়া।
➤ পৈতৃক নিবাস: নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামের মুন্সী বাড়ি।
➤ পুরো নাম: আবুল কালাম মোহাম্মদ কবীর।
➤ পিতা খান: বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী।
➤ মাতা: আফিয়া বেগম।
➤ শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (সম্মান, ১৯৪৩ সাল) ও এমএ (১৯৪৪ সাল)। ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তিধারী হিসেবে আমেরিকার মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন সাহিত্য সম্পর্কে এবং ১৯৬৩-১৯৬৫ সালে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন সম্পর্কে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন।
➤ কর্মজীবন: পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে সরকারি চাকুরিতে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে স্বেচ্ছায় সরকারি চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ছিলেন বাংলা একাডেমির প্রধান। ১৯৯৮ সালে জাতীয় অধ্যাপক পদ লাভ করেন।
➤ পুরস্কার: অলক্ত স্বর্ণপদক ও সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৫ সাল), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩ সাল), একুশে পদক (১৯৯১ সাল), বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (২০০১ সাল), কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক ট্যাগোর পীস অ্যাওয়ার্ড, পশ্চিমবঙ্গের উইলিয়ম ক্যারি রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি সেন্টার কর্তৃক উইলিয়ম ক্যারি গোল্ড মেডাল ।
❖ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
➤ গবেষণা-প্রবন্ধ : ইউরোপের দশ নাট্যকার, শেক্সপীয়র ও তাঁর মানুষেরা, শেক্সপীয়র ও গ্লোব থিয়েটার, অভিব্যক্তিবাদী নাটক।
➤ আত্মজীবনী: আমার ছোটবেলা।
➤ অনুবাদ গ্রন্থ: রূপকথার কাহিনী, ব্ল্যাক টিউলিপ, কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো, শেখভের গল্প, সমুদ্রের স্বাদ, গ্রেট গ্যাটসবি, দি গ্রেপস অব র্যাথ।
➤ নাটক (অনুবাদ ও রূপান্তর): আহবান, শত্রু, পাঁচটি একাঙ্কিকা, অচেনা, শহীদের প্রতীক্ষায়।
➤কাব্যানুবাদ: ভাৎসারোভের কবিতা, আধুনিক বুলগেরিয়ার কবিতা, রিস্তো বোতেভর কবিতা।
➤ মৌলিক রচনা: সাহিত্যকোষ।
ঔপন্যাসিক ও নাটক রচয়িতা
➤ জন্ম: ৫ জানুয়ারি ১৯৫০।
➤ মৃত্যু: ২০০৭ সালে।
➤ জন্মস্থান: নোয়াখালীর মাইজদী।
➤ কর্মজীবন: ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর আবির্ভাব। টেলিভিশনের জন্য ধারাবাহিক নাটক লিখে সাহিত্যামোদী মানুষের দৃষ্টিআর্কষণ করেন।
❖ সাহিত্যকর্ম
➤ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রেয়সী, বলো তুমি কার, অভিমানী, অন্তরে তুমি, বাতিল।
➤ নাটক: সোনার কাকন, আংটি, বন্যার চোখে জল, হিয়ার মাঝে।
শিক্ষাবিদ ও লেখক
➤ জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ এপ্রিল।
➤ মৃত্যু: ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর।
➤ জন্মস্থান: নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম।
➤ পিতা: সৈয়দ আবদুল মজিদ
➤ মাতা: ফতেমা খাতুন।
➤ শিক্ষা: আইএ ও বিএ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ)। বাংলায় এমএ (প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ১৯৪৩ সালে)।
➤ কর্মজীবন: কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে লেকচারার পদে যোগদান ১৯৪৬ সালে। চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনা করেন (১৯৪৭-১৯৫৬ সাল)। তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
➤ প্রবন্ধগ্রন্থ: সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮)।
➤ প্রবন্ধ: রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস (১৯৩১), আমাদের দৈন্য।
➤ অনুবাদ গ্রন্থ: সভ্যতা (১৯৬৫, ক্লাইভ বেলের Civilization গ্রন্থ অবলম্বনে), সুখ (১৯৬৫, বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদ)।
অভিনেত্রী
➤ জন্ম: ১৮ জুন ১৯৪৩ সাল।
➤ পৈতৃক নিবাস: নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন গোপাইরবাগ গ্রামে।
➤ পুরস্কার: একুশে পদক (১৯৯৮), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২০), শহিদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি পদক।
➤ উল্লেখযোগ্য নাটক: কোকিলারা, এখনো ক্রীতদাস, বরফ গলা নদী, জীবিত ও মৃত, অকুল দরিয়া, সংশপ্তক, চোখের বালি, শঙ্খনীল কারাগার, এখনও দুঃসময়, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান
➤ জন্ম: ২৪ নভেম্বর ১৯৪৬ সাল।
➤ মৃত্যু: ২২ এপ্রিল ২০২০ সালে।
➤ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ছেঁড়া কথার উড়াল ফানুস, নীচু স্বরে উঁচু কথা, স্মৃতি-প্রীতির সজীব পাতা, রুক্ষ সূক্ষ হীর মুক্তো।
➤ স্মৃতিকথা: মুক্তিযুদ্ধের দিন-দিনান্ত।
➤ জন্ম: ১৯৩৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।
➤জন্মস্থান: নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার সোনাপুরে জন্মগ্রহণ।
➤ মৃত্যু: ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানী সৈন্যের গুলিতে শহিদ হন।
➤শিক্ষা ও কর্মজীবন: ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ছাত্রাবস্থাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি কৃতি ক্রীড়াবিদ ও চিত্র শিল্পী ছিলেন। তাঁর অঙ্কিত শিল্পকর্ম ঢাকায় জাতীয় যাদুঘরে মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত রয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাঁকে আগরতলা মামলার আসামি করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ইকবাল হলের নাম পরিবর্তন করে ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হল’ রাখা হয়।
❖❖❖এছাড়া রয়েছেন: রফিক উল্যা চৌধুরী, আবদুল মালেক উকিল (রাজনীতিবিদ), মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার ওবায়েদ উল্যা, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী), হেমপ্রভা মজুমদার (ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিকন্যা), কাজী গোলাম রসুল (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক), আবদুশ শাকুর (সাহিত্যিক ও সুরকার)।
❖ নদ-নদী: মেঘনা, ডাকাতিয়া, ছোট ফেনী নদী, নোয়াখালী খাল, মধুখালি খাল, রহমতখালি খাল।
