তাজমহল নির্মাণের প্রেক্ষাপট
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের তৃতীয় পুত্র শাহজাহান সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে শাহজাদা খুররম নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রিয় স্ত্রী ছিলেন আরজুমান্দ বানু বেগম। যিনি ইতিহাসে ‘মমতাজ মহল’ নামে পরিচিত। ১৬১২ সালে বিয়ের পর শাহজাহান তাঁর নামকরণ করেন ‘মমতাজ মহল’ (chosen one of the palace /pearl of the palace) নামে। ১৪তম সন্তান প্রসবের সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ১৬৩১ সালের ১৭ জুন মারা যান ‘মমতাজ মহল’। প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের স্মরণে সম্রাট নির্মাণ করেন অবিস্মরণীয় নিদর্শন ‘তাজমহল’।
❖ নির্মাণ ইতিহাস
১৬৩২ সালে তাজমহলের নির্মাণ শুরু হয়। মার্বেল সৌধটির কাজ চলে ২২ বছর ধরে। শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। নির্মাণে খরচ তখনকার সময়ের প্রায় ৩২ মিলিয়ন রুপি। প্রায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। এবং প্রায় ১ হাজার হাতি মার্বেল পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী বহন করে। স্তাপনাটি নির্মাণে পাঞ্জাব থেকে আনা হয় স্বচ্ছ মার্বেল পাথর, চীন থেকে সবুজ পাথর, তিব্বত থেকে স্বচ্ছ নীল পাথর এবং শ্রীলংকা থেকে নীলমণি। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, পারস্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় আটাশ ধরনের মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়।
❖ স্থাপত্যশৈলী
পারস্য ও মুঘল স্থাপত্যের আদলে সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত হয় তাজমহল। তাজমহলের চত্বরের নকশা করেন পারস্যের বিখ্যাত স্থপতি ওস্তাদ ঈসা। বড় গম্বুজের নকশা করেন অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আগত স্থপতি ইসমাইল খাঁ। বড় গম্বুজের ওপর স্বর্ণের দণ্ডটির ডিজাইন করেন লাহোরের বাসিন্দা স্থপতি কাজিম খান। দিল্লীর চিরঞ্জী লাল ছিলেন তাজমহলের প্রধান ভাস্কর এবং মোজাইক-কারক। সমস্ত চারু লিপির দায়িত্বে ছিলেন আমানত খাঁ। রাজমিস্ত্রিদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ। সমস্ত কাজের প্রধান ব্যবস্থাপক ছিলেন মীর আব্দুল করিম এবং মুক্কারিমাত খান। মমতাজ মহলের প্রকৃত সমাধিতে ক্যালিগ্রাফিক শিলালিপি হিসেবে আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে। স্থাপনাটির গায়ে রয়েছে ২৮ ধরনের মূল্যবান রত্ন। দিনের বিভিন্ন সময় ও পূর্ণিমা রাতে স্থাপনাটি নানা রঙ ধারণ করে। দেয়ালের পুরোটা জুড়ে রয়েছে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত। স্থাপনার নকশাটি ‘পিতরা দুরার’ নামে পরিচিত। ১০০ ফুট উঁচু প্রবেশ পথটি লাল রঙের বেলে পাথরের তৈরি। কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে ৪টি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মূল স্থাপনার চারপাশে রয়েছে ১০৮ ফুট উচ্চতার ৪টি মিনার। স্থাপনার মাঝখানে একটি কক্ষে রয়েছে মমতাজ মহল ও সম্রাট শাহজাহানের সমাধি। এছাড়া রয়েছে তালাবদ্ধ ২২টি কক্ষ যা কখনো খোলা হয়নি।