১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘ছয় দফা’ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হলে বঙ্গবন্ধু ৬ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন বর্জন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা তুলে ধরেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ‘ছয় দফা’ দলীয় কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়। ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছয় দফা’ ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু এবং দাবি আদায়ে ৭ জুনের ডাকা হরতালে মনু মিয়াসহ অনেকে নিহত হলে দিনটিকে ‘ছয় দফা’ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। নিম্নে ‘ছয় দফা’ দাবির বিষবস্তু তুলে ধরা হলো-
✹ শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
➣ লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে।
➣ যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে।
✹ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
➣ কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- যথা- দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট বিষয়গুলো অঙ্গ রাজ্যের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
✹ মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
➣ মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত ২টির যে কোনো একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারে।
➣ সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।
➣ বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে।
✹ রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
➣ ফেডারেশনের অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের কোনোরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না।
➣ তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে।
➣ অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।
✹ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
➢ ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক হিসাব রক্ষা করতে হবে।
➢ বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলোর এখতিয়ারাধীন থাকবে।
➢ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোনো হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোই মিটাবে।
➢ অঙ্গ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোনো রকম বাধা-নিষেধ থাকবে না।
➢ শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।
✹ আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
➣ আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলোকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা-সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।