দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত কুমিল্লা জেলা খাদি কাপড় ও রসমালাইয়ের জন্য বিখ্যাত। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। জেলাটি প্রাচীনকালে সমতট জনপদের অন্তর্গত এবং পরবর্তীতে ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। জেলাটির উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দক্ষিণে ফেনী ও নোয়াখালী, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমে চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ। এ-ছাড়া জেলার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে কর্কটক্রান্তি রেখা।
জেলার কিছু অংশ গঠিত প্লাবন ভূমি দ্বারা এবং কিছু অংশ পাহাড়ি বৈশিষ্ট্যময়। বাকি অংশ সমতলভূমি। জেলার অধিকাংশ এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসীন ও হলোসীন বা বর্তমান যুগেই।
❖ জেলার পটভূমি
এ অঞ্চল খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে ত্রিপুরা গুপ্ত সম্রাটদের অধিকারভুক্ত ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, অঞ্চলটিতে বৌদ্ধ দেববংশ রাজত্ব করে সপ্তম থেকে অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত। নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা হরিকেলের রাজাদের শাসনাধীনে আসে। দশম হতে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত চন্দ্র রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়। ১৭৬৫ সালে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৬৯ সালে ঢাকা প্রদেশের অন্তর্গত কুমিল্লায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৭৭৬ সালে এটি কালেক্টরের অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে ত্রিপুরা জেলা গঠনের মাধ্যমে ত্রিপুরা কালেক্টরেটের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দুটি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।
❖ কুমিল্লার খাদি: প্রাচীনকাল থেকে উপমহাদেশে হস্তচালিত তাঁত শিল্প জগদ্বিখ্যাত ছিল। রপ্তানি হতো বিদেশে। কুমিল্লার বিখ্যাত খাদি শিল্প ১৯২১ সাল থেকে এ অঞ্চলে প্রচলিত। এ শিল্পের সাথে জড়িতদের স্থানীয় ভাষায় বলা হতো ‘যুগী’ বা ‘দেবনাথ’। বৃটিশ ভারতে গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে ঐতিহাসিক কারণে এ অঞ্চলে খাদি শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তখন খাদি কাপড় তৈরি হতো রাঙ্গামাটির তুলা থেকে। এ জেলায় গান্ধীজীর প্রতিষ্ঠিত ‘গান্ধী আশ্রম’ খাদি শিল্প প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এটির অবনতি শুরু হয়। বর্তমানে জেলাটিতে ঐতিহ্যবাহী মুসলিনের একটি প্রকল্প চালু রয়েছে।
❖ রসমালাই: উনিশ শতকে ত্রিপুরার ঘোষ সম্প্রদায়ের হাত ধরে রসমালাই এর প্রচলন হয়। সে সময় মালাইকারির প্রলেপ দেওয়া রসগোল্লা তৈরি হতো।
❖ বার্ড: ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালের ২৭ মে (VAID- Village Agricultural & Industrial Development) প্রকল্প ‘পাকিস্তান গ্রাম উন্নয়ন একাডেমি’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর নামকরণ করা হয় ‘বার্ড’। সমাজ বিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খাঁন এটির প্রতিষ্ঠাতা। সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি নামক স্থানে এটি অবস্থিত।
❖ ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি: বুড়িচং উপজেলার কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত। এটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ সৈন্যদের স্মরণে এই সমাধিক্ষেত্রটি Commonwealth War Graves Commission (CWGC) কর্তৃক ১৯৪৬ সালে তৈরি করা হয়। সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি কবর রয়েছে।
❖ শালবন বৌদ্ধ বিহার: সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব বিহারটি নির্মাণ করেন। এতে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে।
❖ শাহ সুজা মসজিদ: কুমিল্লা শহরের মোগলটুলীতে অবস্থিত। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মিত হয়।
❖ রুপবান মুড়া: লালমাই-ময়নামতি পাহাড় শ্রেণীর মধ্যবর্তী এবং কুমিল্লা কালির বাজার সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত।
❖ ইটাখোলা মুড়া: লালমাই পাহাড় সেনানিবাস এলাকায় প্রত্নকেন্দ্রের উত্তর পাশে অবস্থিত।
❖ সভোজ রাজার বাড়ি: কোটবাড়ি-টিপরা বাজার ক্যান্টনমেন্ট সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
❖ আনন্দ বিহার: লালমাই ময়নামতি পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত ঘেঁষে অপেক্ষাকৃত নিচু ও সমতল ভূমিতে বিহারটি অবস্থিত।
❖ কোটিলা মুড়া: আনন্দ বিহার থেকে ১ কি:মি উত্তরে ময়নামতি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে এটি অবস্থিত।
❖ চারপত্র মুড়া: কোটিলা মুড়া থেকে প্রায় ২ কিমি. উত্তর-পশ্চিমে সেনানিবাস এলাকায় এটি অবস্থিত।
❖ সতর রত্ন মন্দির: কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৩ কি:মি পূর্ব দিকে জগন্নাথপুর গ্রামে অবস্থিত। ত্রিপুরার মহারাজা দ্বিতীয় রত্ন মানিক্য ১৭ শতকে এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং ১৮ শতকে মহারাজা কৃষ্ণ মানিক্য সমাপ্ত করেন।
❖ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ: কুমিল্লার সবচেয়ে পুরাতন এবং বিখ্যাত কলেজ। কলেজটি ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্ররায় রানী ভিক্টোরিয়ার নামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ কুমিল্লা সেনানিবাস, ময়নামতি: দেশের সবচেয়ে বড় সেনানিবাস। এটি বাংলাদেশের প্রথম ক্যান্টনমেন্ট। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বহু অস্ত্র এখানে রক্ষিত ছিল। এখানে রয়েছে ইংরেজ কবরস্থান।
বাংলাদেশের কুমিল্লার লালমাই ময়নামতি অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম হয়ে মিয়ানমারের আরাকান পর্যন্ত চলাচলের পথ ছিল সহজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালের শেষের দিকে জাপানীরা বঙ্গোপসাগর দিয়ে এসে বার্মা বা মিয়ানমারের উপকূলে উঠে এবং রেঙ্গুন শহর দখল করে নেয়। তখন ব্রিটিশ বাহিনী উত্তর দিকে পিছু হটে যায়।
সে সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইলিয়াম যোসেফ স্লিম (আঙ্কেল বিল) কে ১৪ আর্মির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৪০-৪১ সালে বিশ্বযুদ্ধের সময় জমি অধিগ্রহণ করে কুমিল্লা বিমান বন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ১৪ আর্মির কমান্ড পোস্ট কুমিল্লার ময়নামতিতে স্থাপন করা হয়।
১৯৪৩ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৪৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লার ময়নামতিতেই ১৪ আর্মির কমান্ড পোস্ট ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইলিয়াম যোসেফ স্লিম বাহিনী নিয়ে মনিপুরের ইম্ফলে চলে যান। ফলে ময়নামতি পাহাড়ি এলাকাটি পরিত্যক্ত হিসেবে থেকে গেলেও সামরিক স্থাপনা ও হাসপাতাল রক্ষণাবেক্ষণে জনবল নিয়োগ করা ছিল।
ভারত-পাকিস্তান দেশ বিভাগের পর ১৯৪৯-১৯৫০ সালে কুমিল্লার ময়নামতি গ্যারিসনকে পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের হেডকোয়ার্টার। ১৯৫০ সালের ১২ জুলাই সেনানিবাসটিকে সরকারিভাবে ‘ময়নামতি সেনানিবাস’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। ১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘৫৩ ব্রিগেড’ কে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি সেনাকর্মকর্তাদের সেনানিবাস থেকে সরিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ নামক অভিযান চালিয়ে হাজারো মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে।
এছাড়া রয়েছে, রাণী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির ও রাণীর কুঠি, ধর্মসাগর।
❖ নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী (জন্ম- ১৮৩৪ সালে, মৃত্যু-১৯০৩ সালে): কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার (পূর্ববর্তী হোমনাবাদ পরগনা) পশ্চিমগাঁওয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলার প্রথম নারী নবাব। ১৮৮৩ সালে জমিদারি শুরু করেন। ১৮৮৯ সালে রানি ভিক্টোরিয়া নবাব উপাধি প্রদান করেন। তার আগে দুইবার ব্রিটিশ সরকারের ‘বেগম’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন। ১৮৭৩ সালে নারীশিক্ষা প্রসারে কুমিল্লায় প্রথম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ‘ফয়জুন্নেসা জেনানা হাসপাতাল’ স্থাপন করেন। তাঁকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান সাহিত্যিক হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তাঁর লেখা পদ্য ও গীতি আলেখ্য এবং আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘রূপজালাল’ ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলায় নারী মুসলমান লেখকের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। তাঁর অন্য দুইটি কবিতার গ্রন্থ হলো- ‘সঙ্গীত লহরী’ ও ‘সঙ্গীতসার’। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘মরণোত্তর একুশে পদক’ প্রদান করে।
❖ মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর (১৮৩৭-১৮৯৬): আধুনিক আগরতলা শহরের স্থপতি হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৮৬২ সালে আগরতলার নগরীকরণ শুরু করেন। ১৮৭১ সালে আগরতলা পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯০ সালে ত্রিপুরায় প্রথম পশ্চিমা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ‘উমাকান্ত একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন উৎসাহী ফটোগ্রাফার ছিলেন। তিনি ভারতের প্রথম রাজা যিনি নিজ প্রাসাদে বার্ষিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।
❖ নওয়াব সৈয়দ শামসুল হুদা (১৮৬২-১৯২২): আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ১৯১৭ সাল থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির ছিলেন। ১৯২১ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হন। জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯১৩ সালে ‘নওয়াব’ এবং ১৯১৬ সালে ‘কে.সি.আই.ই’ উপাধি প্রদান করেন।
❖ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (জন্ম- ২ নভেম্বর ১৮৮৬, মৃত্যু- ২৯ মার্চ ১৯৭১): ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হন। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন এবং বঙ্গীয় কৃষিঋণ গ্রহীতা ও বঙ্গীয় মহাজনি আইন পাসে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪৬ সালে পূর্ববঙ্গ হতে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৫৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে পুত্র দিলীপকুমার দত্তসহ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁদেরকে ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে হত্যা করা হয়।
❖ শচীন দেববর্মণ(১৯০৬-১৯৭৫): কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। ১৯২৩ সালে কলকাতা বেতারে তিনি প্রথম গান করেন। ১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয়। রেকর্ডকৃত উল্লেখযোগ্য গান হলো: ‘যদি দখিনা পবন, ‘প্রেমের সমাধি তীরে, ‘নিশীথে যাইও ফুলবনে, ‘বধুঁগো এই মধুমাস’, ‘ওরে সুজন নাইয়া’।
❖ ড. আখতার হামিদ খান (১৯১৪-১৯৯৯): সমাজবিজ্ঞানী, উন্নয়নকর্মী। ১৯৫৯ সালে বার্ড (বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রথম পরিচালক হন। ১৯৮০ সালে করাচিতে ‘ওরাঙ্গি পাইলট প্রজেক্ট (ওপিপি)’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি এখনো এশিয়ার বৃহত্তম ‘এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে চালু রয়েছে। পল্লি উন্নয়নের অবদানের জন্য তাঁকে ‘সিতারা-ই-পাকিস্তান (১৯৬১)’ ও ম্যাগসেসেই পুরস্কার প্রদান করা হয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৪ সালে তাঁকে ‘ডক্টর অব লজ’ প্রদান করেন।
এ-ছাড়া রয়েছেন, মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৫৮-১৯৪৩), খান বাহাদুর আবদুল করিম (১৮৭৩-১৯৪৫), মেজর আবদুল গণি, নওয়াব স্যার কে,জি,এম, ফারুকী, খান বাহাদুর আবিদুর রেজা চৌধুরী, রায়বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায়, নওয়াব সৈয়দ হোচ্ছাম হায়দার চৌধুরী।
❖ বাখরাবাদ গ্যাস: কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় অবস্থিত। এটি ১৯৬৯ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানের শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। এটি ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত। গ্যাসেরমজুদ প্রায় ১৩৮৭ বিলিয়ন ঘনফুট। ১৯৮৪ সাল থেকে গ্যাসক্ষেত্রটি হতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আবিস্কৃত হয়েছে ‘সিলিকা বালি’।
❖ নদ-নদী
জেলার প্রধান নদী গোমতী। এ-ছাড়া রয়েছে নদী- ডাকাতিয়া ও কাঁকরী।
❖ বিবির বাজার স্থলবন্দর: গোমতী নদী সংলগ্ন বন্দরটি দেশের ১৩তম স্থলবন্দর। স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষিত হয় ১৮ নভেম্বর ২০০২ সালে। কার্যক্রম শুরু হয় ২৩ এপ্রিল ২০০৯ সালে। রাজধানী থেকে সবচেয়ে কাছের স্থলবন্দর। স্থলবন্দরটি দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সঙ্গে আন্তদেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
আয়তন: ৩০৮৭ দশমিক ৩৩ বর্গ কিলোমিটার।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ১০৬ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা: ৬,২১২,২১৬ জন (জনশুমারি ২০২২)।
শিক্ষার হার: ৭৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
উপজেলা: ১৭টি (আদর্শ সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, বরুড়া, নাংগলকোট, মনোহরগঞ্জ, চান্দিনা, তিতাস, দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং , ব্রাহ্মণপাড়া ও লালমাই)।
সংসদীয় আসন: ১১টি।
সিটি কর্পোরেশন: ১টি।
পৌরসভা: ৮টি (লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, চান্দিনা, হোমনা ও বরুড়া পৌরসভা)।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর: ২ নং।
ইউনিয়ন: ১৯৩টি।
গ্রাম: ৩,৬৮৭টি।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: ১টি (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়)।
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল: ১টি।