কান্তজীউ মন্দির নির্মাণ ইতিহাস
দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭২২ সালে পোড়ামাটির অলঙ্করণ সমৃদ্ধ মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫২ সালে তাঁর পালক পুত্র রাম নাথ রায় মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
কান্তজীউ মন্দির মন্দির তত্ত্বাবধান
১৯৫২ সালে দিনাজপুর রাজবংশের সর্বশেষ রাজা জগদীশ চন্দ্র রায়বাহাদুর রাজবাড়ি ও তাঁর সহায় সম্পদ ত্যাগ করে কোলকাতায় চলে যান। পরবর্তীকালে মন্দিরটি দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের একটি অংশ হয়ে যায়। রাজদেবোত্তর এস্টেট বর্তমানে মন্দিরটি দেখাশোনা করে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করে।
সংস্কার
১৮৯৭ সালে মন্দিরটি ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং মন্দিরের নয়টি চূড়া ভেঙ্গে যায়। পরে রাজা গিরিজনাথ মন্দিরের সংস্কার করলেও চূড়াগুলো আর নির্মাণ করা হয়নি। ‘সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট’ প্রকল্পের (মেয়াদ: ২০১০-২০১৬ সাল) মাধ্যমে মন্দিরটির সামগ্রিক উন্নয়ন করা হয়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়িত প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
স্থাপত্যশৈলী
১ মিটার উচু ও ১৮ মিটার বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার বেদীর ওপর মন্দিরটি নির্মিত। ইটের তৈরি মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার। তিনতলা বিশিষ্ট মন্দিরে নয়টি চূড়া ছিল। এজন্য এটাকে নবরত্ন মন্দির বলা হয়। ৫০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার (পূর্বে ছিল ৭০ ফুট)। এর নিচ তলায় ২৪টি, দ্বিতীয় তলায় ২০টি ও তৃতীয় তলায় ১২টি দরজা রয়েছে। ধারণা করা হয়, কান্তজীউ মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত পাথর আনা হয় হিমালয়, আসামের পার্বত্যাঞ্চল ও বিহারের রাজমহল পাহাড় থেকে। মন্দিরটিতে ১৫ হাজার টেরাকোটা টালি রয়েছে। মন্দিরের গায়ে লাগানো পোড়ামাটির ফলকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি। টেরাকোটা শিল্পকর্মের মাধ্যমে বয়ান করা হয়েছে মহাভারত ও রামায়ণ। কালো পাথরে খোদিত রয়েছে শ্লোক। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুঘল আমলের বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ছবি। মন্দিরটি ইন্দো-পারস্য ভাস্কর শৈলীতে নির্মিত। ঐতিহাসিক বুকানন হ্যামিলটনের মতে, কান্তজীউ বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরতম মন্দির।