উত্তরা গণভবন নির্মাণের ইতিহাস
দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ছিলেন নাটোরের রাজা রামজীবন ও রাণীভবানীর বিশ্বস্ত দেওয়ান । ১৭০৬ সালে রামজীবনের কাছ থেকে তিনি নাটোরের দিঘাপতিয়া এলাকায় জমিদারী লাভ করেন। এরপর দুইশ’ বছরের অধিক সময় ধরেএ রাজবংশ বগুড়া, পাবনা, জামালপুর ও যশোর জেলার অংশবিশেষ শাসন করে। ১৭৩৪ সালে দিঘাপতিয়া প্রাসাদের মূল অংশ ও এর সংলগ্ন কিছু ভবন নির্মাণ করেন দয়ারাম রায়। রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদানাথ রায়ের আমলে ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। পরে রাজা প্রমদা নাথ রায় ১৮৯৭-১৯০৮ সাল পর্যন্ত রাজবাড়ীটি পুনঃনির্মাণ করেন।
উত্তরা গণভবনের নামকরণ
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিঘাপতিয়ার শেষরাজা প্রতিভানাথ রায় দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর দিঘাপতিয়ার রাজ প্রাসাদটির রক্ষণাবেক্ষণে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজ প্রাসাদটি পরিত্যাক্ত থাকে। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সরকারি ভবন হিসেবে সংস্কার করা হয়। ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান গভর্নরের বাসভবন হিসেবে এটি উদ্বোধন করেন। ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর নামকরণ করেন ‘উত্তরা গণভবন’। একই বছর মূল প্রাসাদের ভিতর মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমারে রাজপ্রাসাদটি ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন। ২০২২ সালে উত্তরা গণভবনের ৫০তম জন্মদিন তথা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হয়। মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২ সালের অক্টোবরে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে এ গণভবনে সফরে আসেন শেখ হাসিনা।
উত্তরা গণভবনের স্থাপত্যশৈলী
প্রাসাদটি ইন্দো-আরবীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। রাজবাড়ীতে মোট ১২টি ভবন রয়েছে, এগুলো হলো- প্রধান প্রাসাদ ভবন, কুমার প্রাসাদ, প্রধান কাচারি ভবন, ৩টি কর্তারাণী বাড়ি, প্রধান ফটক রান্নাঘর, মোটর গ্যারেজ, ড্রাইভার কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার, কোষাগার ভবন ও সেন্ট্রি বক্স। প্রধান ভবনের সামনে ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশদের নির্মিত দুটি কামানসহ রাজবাড়িতে রয়েছে ৬টি কামান। রয়েছে গ্রিক রীতিতে তৈরি দুটি নারী ভাস্কর্য এবং মূল ফটকের ওপরে ইটালির ফ্লোরেন্স থেকে আনা বিশালাকার ঘড়ি।